শিরোনাম
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫:৩১, ২ মার্চ ২০২৫ | আপডেট: ২০:০০, ২ মার্চ ২০২৫
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর মহানগর শাখার মুখপাত্র নাহিদ হাসান খন্দকারের চাঁদা দাবির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার মধ্যরাতে তাঁকে সংগঠনের রংপুর মহানগর শাখা থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, আপনার (নাহিদ হাসান খন্দকার) বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং সে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর মহানগরের সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন ওঠে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো প্রকার অবৈধ কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। অতএব, অভিযোগ বিষয়ে কেন আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে তার কারণ ব্যাখ্যা করে নিম্ন স্বাক্ষরকারীর (মুখ্য সংগঠক আলী মিলন) কাছে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় বিষয়টি সাংগঠনিক নিয়মে নিষ্পন্ন করা হবে।
গতকাল শনিবার সকালে নাহিদের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভ্যুত্থান পরবর্তী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠকের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তবে নাহিদের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
ভিডিওতে রংপুর নগরীর গ্রিন সিটি ইকো পার্কের প্রকল্প ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেনের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর মহানগরের মুখপাত্র নাহিদ হাসান খন্দকারের কথোপকথন শোনা যায়। একটি পুকুর খনন করে বালু উত্তোলন ও পার্ক নির্মাণের বিষয়ে নাহিদ হাসান খন্দকারের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। ফোন কলের অপর পাশে থাকা ব্যক্তি নাহিদ হাসানকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুমি যদি বলো সেখানে বালুর ব্যবসা হচ্ছে, তাহলে সেটা বন্ধ করে দেই। এক লাখ টাকা দিতে পারব না, পাঁচ হাজার টাকা দিচ্ছি।’
জবাবে নাহিদ হাসান খন্দকার বলেন, ‘ব্যবসা আপনি বন্ধ করবেন কেন, ব্যবসা আপনিই চালান। ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। প্রয়োজনে সময় নেন, ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন।’
নাহিদ হাসান আরও বলেন, ‘আপনি তো দেখছেন বিষয়টি কোথায় গেছে। ইউএনও–ডিসিকে সামলাতে হচ্ছে। যদি মনে হয় কিছু কমাবেন তাহলে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। আমি চাই না আপনাদের কোনো সমস্যা হোক। জানেন তো, সংগঠন চালাতে হলে কী কী করতে হয়!’
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর মহানগর শাখার মুখপাত্র নাহিদ হাসান খন্দকারের সঙ্গে প্রথমে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি গণমাধ্যমকর্ম ীকে একাধিক স্থানে ঘুরিয়েও শেষ পর্যন্ত দেখা করেননি। এ বিষয়ে ফোনে কথা বলতেও রাজি হননি।
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে নাহিদ বলেন, ‘ছয় সাত দিন আগে অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি কারও কাছ থেকে এক টাকাও নিইনি। তাঁরা কোনো প্রমাণও দিতে পারবেন না। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে আমরা সেখান থেকে এক টাকা নিয়েছি, তাহলে সংগঠন যে শাস্তি দিবে তা আমি মাথা পেতে নেব।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গ্রিন সিটি ইকো পার্কের প্রকল্প ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘হাজিরহাটে পার্কে পুকুর করার জন্য খনন কাজ চলছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ হাসান খন্দকার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে আমার কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। যা ভিডিওতে রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর চাঁদা দাবির অনেক কল রেকর্ড আমার কাছে আছে। যা দ্রুততম সময়ে প্রকাশ করা হবে। এমন চাঁদাবাজ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতো সংগঠনে থাকতে পারে না।’
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাঁরা কেউ প্রকাশ করেননি বলেও জানান বেলাল হোসেন।
এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহম্মেদ ইমতি বলেন, ‘যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে সেটি নিয়ে আমাদের টিম তদন্ত করছে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে সেটির প্রেক্ষিতে আমরা তাকে শোকজের মাধ্যমে জবাব চেয়েছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোরাম মিটিংয়ের মাধ্যমে নাহিদ হাসান খন্দকারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ নভেম্বর রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সদস্যসচিব আরিফ সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউল্যাব শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহম্মেদ ইমতিকে আহ্বায়ক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রহমত আলীকে সদস্যসচিব করে ৬ মাস মেয়াদি রংপুর মহানগরের ১১২ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে রংপুর ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের রংপুর মহানগরের সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান খন্দকারকে মুখপাত্র করা হয়।