ঢাকা, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫

২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

শিরোনাম

Scroll
আসিয়ান সদস্যপদের জন্য থাইল্যান্ডের সমর্থন চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা
Scroll
দুর্নীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াইয়ে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
Scroll
যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ স্থগিত করতে ইউরোপের প্রতি আহ্বান ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর
Scroll
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১১২ জন নিহত, প্রাণভয়ে পালাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা
Scroll
ইউনূস-মোদীর বৈঠক: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
Scroll
বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে থাই বিশিষ্টজনদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করলেন প্রধান উপদেষ্টা
Scroll
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ঘোষণার একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় পতন
Scroll
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করল আদালত, ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন

২৩ বছরে অন্তত ২৭ বার আগুন লেগেছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে

খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০:৫২, ২৭ মার্চ ২০২৫ | আপডেট: ১১:৩০, ২৭ মার্চ ২০২৫

২৩ বছরে অন্তত ২৭ বার আগুন লেগেছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে

প্রায় প্রতি বছরই আগুন লাগছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে। এতে পুড়ছে বিস্তীর্ণ বনভূমির গাছপালাসহ বিভিন্ন লতা-গুল্ম। গত ২৩ বছরে সুন্দরবনে আগুন লেগেছে অন্তত ২৭ বার। প্রতি বছর প্রায় একই সময় ঘটছে অগ্নিকাণ্ড। এতে জীববৈচিত্র নষ্টের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বনের মাটির গুণাগুণ। 

এব্যাপারে বন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে প্রতিবারই আগুনের সূত্রপাত হচ্ছে মনুষ্য সৃষ্ট কারণে। তবে দোষীদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ প্রশাসন। নেওয়া যাচ্ছে না কাঙ্খিত আইনি ব্যবস্থাও। 

প্রতিবারই আগুন লাগার পর কারণ অনুসন্ধান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে সেসব তদন্ত প্রতিবেদন ও দুর্ঘটনা এড়াতে করা সুপারিশগুলো আলোর মুখ দেখেনি। যার কারণে থামানো যাচ্ছে না সুন্দরবনের অগ্নিকাণ্ড। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, আগুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত রয়েছে একটি মহল।  

এর আগে গত ২২ মার্চ শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজি এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটে। এসময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পরদিন আবার আগুন জ্বলতে দেখা যায় শাপলার বিল তেইশের ছিলা এলাকায়। এতে পুড়ে যায় লতা, গুল্ম ও গাছ। এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি করেছে বন বিভাগ।

বন বিভাগের তথ্য মতে, গত বছর মে মাসে লতিফের ছিলায় আগুন লাগে। এর আগে কোনো কোনো বছরে একাধিকবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বন বিভাগ বলছে, ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত সুন্দরবনে আগুন লেগেছে অন্তত ২৭ বার।  

স্থানীয় এক জেলে সংবাদমাধ্যকে বলেন, ‘সরকারিভাবে আমরা টাকা দিয়ে বনের খাল ও নদীতে মাছ মারি। আমাদের বন যদি না থাকে তাহলে আমরা থাকব কীভাবে!’

শরণখোলা উপজেলার আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আগুন লাগার কারণ বলা যাচ্ছে না। কিন্তু বারবার যে আগুন লাগে এইটার কোনো পদক্ষেপ কেন নেয় না সরকার!’

সুন্দরবনের অনাকাঙ্খিত এসব অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনে জেলে-মৌয়ালদের অসাবধানতাকে দায়ী করা হয়। তবে এব্যাপারে নিয়ে দ্বিমত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে বনে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে একটি মহল। কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে তারা। 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেষ্ট্রি ও উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘যারা এই কাজের সাথে জড়িত তাদের যদি শনাক্ত করা না হয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আগামীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকবে।’

খুলনা বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান , ‘অগ্নিকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গেও আলাপ করা হয়। তা বলে যে, অনেকেই আছে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে বনে আগুন দেওয়া হয়। সেটা করলে হয়ত তাদের কিছু কিছু সুবিধা হয়। এই বিষয়টি আমাদের কানেও এসেছে। এ নিয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে জড়িতদের বের করে আনা হবে। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি।’ 

এদিকে অগ্নিকাণ্ড ঠেকাতে সচেতনতায় জোর দিচ্ছে বন বিভাগ। এছাড়া সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে নেটিংয়ের পাশাপাশি দ্রুত পানি পেতে খনন করা হচ্ছে ভোলা নদী ও খাল।

আরও পড়ুন