শিরোনাম
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০:৪৬, ৩১ মার্চ ২০২৫
সোমবার বেলা ১০টার পরপরই শোলাকিয়ার ঈদুল ফিতরের ১৯৮তম জামাতে নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান বৃহত্তম ঈদ জামাতটির ঈমাম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। শতবছরের ঐতিহ্যের ধারায় এবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়ার জামাতে ঈদের নামাজ আদায়ে শরিক হন।
সময়ের সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিদের জমায়েতে বিশাল মাঠ জনসমুদ্র হয়ে ওঠে। বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা তল্লাশি পার হয়ে মুসল্লিরা নামাজ আদায়ের জন্য মাঠের জামাতে শরিক হন। ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরপর কয়েকটি ফাঁকা গুলির মাধ্যমে মুসল্লিদের জামাতে শরিক হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তা, ফাঁকা জায়গা, বাড়ি, বাড়ির ছাদে মুসল্লিরা দাঁড়িয়ে পড়েন নামাজের অপেক্ষায়। দীর্ঘদিন পর আবার মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর ঈমামতিতে শুরু হয় ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত।
শতবছর আগে একসাথে সোয়া লাখ মুসল্লির নামাজ আদায়ের কারণে ঐতিহাসিক এ মাঠের নাম হয় সোয়ালাখিয়া। কালের বিবর্তনে এখন তা শোলাকিয়া মাঠ। নামাজ শেষে মুসল্লিদের জন্য দিকনির্দেশনামূলক খুতবা পাঠ করেন মুফতি সাইফুল্লাহ। এরপর শুরু হয় কাঙ্ক্ষিত মোনাজাত। লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নেন মোনাজাতে।
কিশোরগঞ্জের হযরত নগর সাহেব বাড়ির পূর্বপুরুষ শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ তার নিজস্ব তালুকে নরসুন্দা নদীর তীরে ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ৭ একর জমির ওপর ‘শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান’ প্রতিষ্ঠা করেন। এমনকি তার ইমামতিতে এ ঈদগাহ ময়দানে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী জানান, বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ইমামকেও পরিবর্তন করা হয়েছিল। যাকে (ফরীদ উদ্দীন মাসুদ) এই ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে ইমামতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনি একজন বিতর্কিত আলেম। এই কারণে অনেক মুসল্লি শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে অংশ নিতেন না। ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে এবার সর্বোচ্চ মুসল্লি শোলাকিয়ার ঈদ জামাতে অংশ নিচ্ছেন।