শিরোনাম
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২:৪২, ২৬ অক্টোবর ২০২৪ | আপডেট: ২০:৪৫, ২৬ অক্টোবর ২০২৪
যশোরে বাংলাদেশ কারাতে অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে সাংবাদিকসহ ৫ জনকে পুলিশের হেফাজতে নেয়ার ৭ ঘণ্টা পর মুচলেকা দেয়ায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) যশোর জিমনেশিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যশোরে থিম সং এ শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ থাকায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বিব্রত বোধ করেন এবং তিনিই পুলিশকে নির্দেশ দেন ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য।
এ ৫ জন হলেন- দৈনিক স্পন্দনের ফটো সাংবাদিক ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক ইমরান হাসান টুটুল, কারাতে অর্গানাইজেশন যশোর জেলার শাখার সভাপতি হুমায়ুন কবীর, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জয়তী সোসাইটির পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস ও শেখর যশোরের সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা রাসু।
সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, দুইদিনের কারাতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার শুক্রবার ছিল উদ্বোধন অনুষ্ঠান। প্রতিযোগিতায় নেপালের ১৬ জন, ভারতের দুইজন অতিথি, নেপালের একজন অতিথি এবং বাংলাদেশের ১০ জেলার মোট ৩২০ জন অংশ নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শেখর যশোরের কর্মীরা নিত্য পরিবেশন করে। ওই নিত্যানুষ্ঠানের যশোরের পরিচিতি তুলের ধরার জন্য ‘থিম সং’ বাজানো হয় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। ওই গানের শেষের দিকে যশোরের শেখ হাসিনা আইটি পার্কের কথা উল্লেখ করা হয়। গানটি অনেক আগেই রেকর্ড করা। ওই গানে শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ থানায় ডিসি সাহেব বিব্রিত বোধ করেন। পরে তিনি জিমনেশিয়ামের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলে পুলিশ গেট বন্ধ করে দেন। সেখান থেকে তাকে এবং সভাপতি হুমায়ুন কবীর, রওশন আরা রাসু, এবং ইমরান হাসান টুটুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে। এছাড়া অর্চনা বিশ্বাসকে মোবাইল করে থানায় ডেকে নিয়ে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। ওই অনুষ্ঠানে অর্চনা বিশ্বাস অতিথি হিসাবে অংশ নেন। তিনি অনুষ্ঠানের শেষের দিকে হট্টগোল শুরু হলে বাড়িতে চলে যান। পরে পুলিশ সংবাদ দেয় তাকে।
তিনি আরও বলেছেন, ওই গানটি অসর্তকতাবশত বাজানো হয়েছিল। এ জন্য প্রকাশ্যে তারা ক্ষমা চেয়েছেন। একই কথা বলেছেন, শেকড় যশোরের সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা রাসু।
অর্চনা বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি স্বেচ্ছাসেবী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জয়তী সোসাইটির পরিচালক। এই অনুষ্ঠানের স্পন্সর ছিল জয়তী সোসাইটি। অনুষ্ঠান কিভাবে হবে, কারা থাকবে, সেটা জানি না। পুলিশ আমাকে ডেকে আনে।
সাংবাদিক ইমরান হাসান টুটুল বলেন, তিনি সংবাদ সংগ্রহের জন্য ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। কী কারণে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে তা তিনি জানেন না। একই কথা বলেছেন, জয়তী সোসাইটির পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস। তার দাবি তিনি অতিথি হিসাবে সেখানে গিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে নাচের অনুষ্ঠানে ফ্যাসিস্ট সরকারের উন্নয়নের গান বাজানো হয়েছিল। এটা পরিকল্পিত বল মনে হয়েছে। যে কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পালন করেছেন মাত্র। ৫ জনকে থানায় নিয়ে এসে সসম্মানে রাখা হয় সবশেষ তারা ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দেয়ায় রাত ৮টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়।