শিরোনাম
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯:৩৭, ২৬ অক্টোবর ২০২৪
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলমের আগমনের প্রতিবাদে লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রংপুরের জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীরা।
দুপুরে নগরীর সেন্ট্রাল রোডের জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর সিটির সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এ সময় লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। মিছিলটি নগরীর পায়রা চত্বর থেকে জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব চত্বর, পুলিশ লাইন্স হয়ে পুনরায় পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। যার কাজ হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের সংস্কার, পুলিশের সংস্কার ও একটিভ করা, সচিবালয়কে সক্রিয় করে সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে যাওয়া। কিন্তু তারা সেদিকে নজর না দিয়ে রাজনৈতিক সংস্কারের দিকে মনোনিবেশ করছেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সংস্কারের দায়িত্ব এই দেশের জনগণ আপনাদের দেয়নি। এটা রাজনৈতিক সরকারের কাজ। এ সময় তিনি উপদেষ্টাদের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, আপনারা কতজন এই আন্দোলন করেছেন। আপনাদের ঘর থেকে তুলে এনে উপদেষ্টা করা হয়েছে পুরনো জঞ্জালকে পরিষ্কার করে একটা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজন করার জন্য। কিন্তু কতিপয় কুলাঙ্গার সমন্বয়ক যা বলছেন, তোতা পাখির মতো উপদেষ্টারা তা পালন করছেন। এভাবে দেশ চলতে পারে না।
সাবেক সিটি মেয়র বলেন, সারজিস ও হাসনাত আব্দুল্লাহ তো রাষ্ট্রের কোনো ভিভিআইপি নয়, পুলিশ কেন তাদের প্রটোকল দিচ্ছে! পুলিশ প্রটোকল দেবে রাষ্ট্রের। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যখন রংপুরের রাজপথে কেউ নামতে পারে নাই, তখন জাতীয় পার্টির ছাত্রসমাজ, শ্রমিক পার্টি, যুব সংহতি রাজপথে নেমেছে, ব্যানার হাতে মিছিল নিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছে। আন্দোলনকারীদের সহযোগিতা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কাছে হেনস্থা হতে হয়েছে। তারপরও কুলাঙ্গার সমন্বয়করা যদি বলে দেশ তাদের, তাহলে তারা ভুল করছে। দেশ কোন সমন্বয়কের বাপের না। এই দেশ জাতীয় পার্টি, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন, জামায়াতসহ ১৮ কোটি মানুষের।
প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে জাপা নেতা মোস্তফা বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারে জাতীয় পার্টিকে প্রথমবার ডেকেছিলেন। এরপর সমন্বয়ক হাসনাত ও সারজিসের কথা আমলে নিয়ে আর ডাকলেন না। আমরা এতে মর্মাহত হয়েছি। এ সময় আরও বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসীর, জেলা জাতীয় পার্টির সদস্যসচিব হাজি আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সংস্কার ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে যেন জাতীয় পার্টিকে ডাকা না হয়, এমন স্ট্যাটাস দেন এই দুই সমন্বয়ক। এরপরেই সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে রংপুরে ঢুকতে না দেওয়ার ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর সিটির সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এর পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের নেতারা ও জাতীয় পার্টি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করে। এরই মধ্যে পুলিশ প্রধানের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে আজ শনিবার রংপুরে আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম।