শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫:৩৮, ২৪ মার্চ ২০২৫ | আপডেট: ১৬:৪৫, ২৪ মার্চ ২০২৫
‘২৪শে মার্চ ২০২৫,
সময়ঃ সকাল ১০:৩০ মিনিট,
স্থানঃ ঢাকা সেনানিবাস প্রাঙ্গণ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল স্তরের কর্মকর্তা ও সৈনিকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সারা দেশের সকল সেনানিবাসের জিওসি'রা তাদের সেনানিবাসের সকল সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে একযোগে ভাষণে যোগ দেবেন।’- এমন একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অবশ্য এই সংবাদ যারা শেয়ার করছেন তারা বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের সমর্থক-নেতাকর্মী।
সেখানে আরও বলা হয়,
১. শান্তি ও শৃঙ্খলা, আইন পুনরুদ্ধার সংবিধানের সঠিক প্রয়োগ, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং অংশগ্রহণমূলক অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার জন্য বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা বা সামরিক শাসন জারির জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে।
২. আজ থেকে যেকোনো সময় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হতে পারে, যার ফলে জাতীয় জরুরি সরকার গঠন করা সম্ভব হবে।যা ১২০ দিন বা ১৮০ দিন স্থায়ী হবে, দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীলতার উপর এর মেয়াদ বাড়তে পারে।
৩. এসময় দেশের পরিস্থিতির আইনশৃঙ্খলা নিযন্ত্রণের লক্ষে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সমাবেশ এবং সভা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হতে পারে।
৪. উক্ত দিনের মাঝেই দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার লক্ষে কাজ করবে সামরিক, আধাসামরিক ও বেসামারিক আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
৫. দেশের সার্বিক ব্যবস্থা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যথাযথ সময় দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনের জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
তবে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর সূত্রে, এমন কোনো বৈঠকের সংবাদ পাওয়া যায়নি। দেশের মূলধারার কোনো সংবাদমাধ্যমও এই নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে গতকাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইফতার করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এ ইফতার আয়োজনের সময় তিনি আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ খবর নেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে গিয়ে গেল কয়েকদিন দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনা তৈরি হয় সেনাপ্রধান ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। যদিও সেই ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে তাদের দলের মধ্যেই এখন নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন দলটির আরেক নেতা সারজিস আলম। দলের কেউ কেউ সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে পোস্ট দেওয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।
দেশের সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে এই পোস্টেটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে মাঠের রাজনীতি সব জায়গায় নানা আলোচনা- সমালোচনা চলে।
পরদিন শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় মিছিল-সমাবেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি করা হয়। আর এ সব বিক্ষোভ থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। একইসঙ্গে সমালোচনা করা হয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের।
তবে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের বক্তব্যে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান। বিএনপিসহ বিভিন্ন দল গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার চায়। কিন্তু দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে নয় বিএনপি ও তার মিত্রদের অনেকে।
অন্যদিকে সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য নিয়ে রাজনীতিকদেরই কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন। সেনাবাহিনীকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হলো কি না, এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশের ভেতর সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন আবার সামনে এনেছে।