শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:০৫, ২৮ মার্চ ২০২৫
রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘরমুখী মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার থেকে যাত্রীদের ভিড় আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছে দূরপাল্লার বাস ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। গতকাল পর্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যেই রাজধানী ছেড়েছেন যাত্রীরা। আজ থেকে চলবে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর রেল স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের চাপ আগে দেখা গেলেও সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল তুলনামূলক ছিল অনেকটাই ফাঁকা। তবে মঙ্গলবার থেকে বাস টার্মিনালে যাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও চাপ কম।
রাজধানীর রাস্তাগুলোয় গাড়ি কম, বাজারে মানুষ কম, সড়কে নেই তেমন যানজট। মার্কেট-বিপণি বিতানগুলোতেও নেই অতীতের মতো ক্রেতার ভিড়। বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল সদরঘাট এবং কমলাপুর রেলস্টেশনেও নেই চোখে পড়ার মতো যাত্রীচাপ। ২৮ মার্চ (শুক্রবার) ও ২৯ মার্চ (শনিবার) সাপ্তাহিক দুদিনের ছুটি শেষে ৩০ মার্চ রবিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ঈদের ছুটি। ঈদের ছুটি শেষে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত খুলবে আগামী ৬ এপ্রিল রবিবার।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২৬ মার্চ থেকে ১৬১টি কারখানায় ছুটি শুরু হয়েছে। ২৭ মার্চ থেকে ৩৭৪টি, ২৮ মার্চ থেকে ৬৪৮টি এবং ২৯ মার্চ থেকে ৯২৪টি কারখানা ছুটি দেবে। তবে ২০৭টি কারখানা এখনও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি। পাওনা পরিশোধ হয়ে গেলে এসব কারখানার শ্রমিকরাও চলে যাবে ঈদের ছুটি কাটাতে। স্কুল ও গার্মেন্টস ছুটির কারণে এবছর রাজধানীতে আগেভাগেই ঈদের ছুটির আমেজ শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ৩১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৩১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ৩১ মার্চ ঈদুল ফিতর ধরে ঈদের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছে সরকার। ঈদ উপলক্ষে এবারই সরকার প্রথম পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। ২০২৫ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী-ছুটি মূলত শুরু হয়েছে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন। এরপর ২৭ মার্চ একদিন অফিস খোলা। ২৮ মার্চ শবে কদরের ছুটি।
শুক্রবার ভোর থেকে ‘দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশপথ’ হিসেবে খ্যাত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ওই মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়েও ছুটছে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষ। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকলেও আধুনিক এই মহাসড়কের কোথাও কোনও যানজট বা বিড়ম্বনা নেই বলে জানিয়েছেন ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা।
পদ্মা সেতু সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, এবারে ঈদযাত্রা এই মহাসড়কে একেবারেই নির্বিঘ্ন। এ ছাড়া পদ্মা সেতু টোল প্লাজায় দ্রুত টোল আদায়ের জন্য ৭টি নিরবচ্ছিন্ন টোলঘর সচল রাখা হয়েছে।