ঢাকা, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

শিরোনাম

Scroll
বিচার বানচালে পতিত সরকারের অর্থ ব্যয়ের তথ্য মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর
Scroll
ট্রাম্পের প্রশাসনে থাকছে না মাস্কের চাকরি
Scroll
মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতির
Scroll
ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ: ট্রাম্পের শুল্ক গণনা পদ্ধতিই ‘অন্যায্য’, বাংলাদেশসহ গরিব দেশগুলোর জন্য বিপর্যয়কর
Scroll
ট্রাম্পের শুল্কনীতি আরোপে বাণিজ্য যুদ্ধের শঙ্কা, বিশ্বনেতাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
Scroll
দেশকে বদলাতে পরিচালনা পদ্ধতি পাল্টাতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
Scroll
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসাল যুক্তরাষ্ট্র
Scroll
সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসালেন ট্রাম্প
Scroll
মিয়ানমারে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩০০৩, ত্রাণ সরবরাহে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা জান্তার
Scroll
বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা

শুল্ক খড়গ, যেভাবে বাংলাদেশের পোষাক তেমন ক্ষতিগ্রস্থ হবে না

অর্থনীতি প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩:৪৩, ৩ এপ্রিল ২০২৫

শুল্ক খড়গ, যেভাবে বাংলাদেশের পোষাক তেমন ক্ষতিগ্রস্থ হবে না

বাংলাদেশের পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এখন দেখতে হবে, বাংলাদেশের প্রতিযোগীদের ওপর ঠিক কী হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বিষয়টি হলো ভিয়েতনাম, চীন ও কম্বোডিয়ার শুল্ক বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হবে, সে কারণে হয়তো আরএমজি শিল্প অতটা আক্রান্ত হবে না, এমন ধারণা কেউ কেউ করছেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগীদের মধ্যে তুরস্কের ওপর ১০ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ৩০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ৪৪ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ ও কম্বোডিয়ার ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।‍

দেখা যাচ্ছে, ভারত, পাকিস্তান ও তুরস্কের ওপর শুল্ক আমাদের চেয়ে কম। এই ফাঁকে ভারত হয়তো লাভবান হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন ভোক্তারা এমনিতেই কিনবে কম; এর জেরে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।‍

বিষয়টি হলো, পৃথিবীর অন্যান্য দেশ মার্কিন পণ্যে এত দিন উচ্চ হারে শুল্ক  আরোপ করেছে। অনেক দিন ধরেই এটা চলে আসছে, যেমন ভিয়েতনাম মার্কিন পণ্যে ৯০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে-এখন যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে ঠিক তার অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৫ শতাংশ। বাংলাদেশও মার্কিন পণ্যে ৭৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ রেখেছে-এখন আমাদের পণ্যে তার অর্ধেক  বা ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ৫২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছিল, এখন তাদের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে ঠিক তার অর্ধেক বা ২৬ শতাংশ।

তবে শুল্কের হিসাবে ফাঁকি আছে। ধরা যাক, বাংলাদেশে বানানো বড় কেনাো ব্র্যান্ডের শার্ট যুক্তরাষ্ট্রের দোকানে এতদিন ২০ ডলারে বিক্রি হতো। সেই ব্র্যান্ড হয়তো বাংলাদেশের গার্মেন্টস কোম্পানি থেকে সেই শার্ট কিনছে পাঁচ ডলার ইউনিট প্রাইসে (বা ক্রয়মূল্যে)। শুল্কের হিসাবের ফাঁকটা হলো, এটি আরোপ করা হয় বন্দরে আমদানির সময়ের ক্রয়মূল্যের ওপর, বাজার মূল্যের ওপর নয়। এখন হিসেব করলে দেখা যাবে, সেই পাঁচ ডলারের শার্টের ওপর আগে শুল্ক আসত ৭৫ সেন্ট, এখন আসবে ২ ডলার ৬০ সেন্ট। আগের চেয়ে বেশি দিতে হবে ১ ডলার ৮৫ সেন্ট। ফলে ২০ ডলারের ওই শার্টের দাম প্রায় দুই ডলার বাড়িয়ে সেই ব্র্যান্ড অনেকটাই সামাল দিতে পারবে।

আরেকটি সুবিধা হলো, বাংলাদেশ মূলত মধ্যম ও কম দামের পণ্য রপ্তানি করে। এসব পণ্যের দাম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম, চীন বা এমনকি ভারত এখন উচ্চ মূল্যের পোশাক রপ্তানি করছে। ফলে তারা যতটা আক্রান্ত হবে, বাংলাদেশ ততটা হবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়।     

তারপরও অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের উচিত মার্কিন পণ্যের শুল্ক কমানো, সেটা হলে আমাদের পণ্যে মার্কিন শুল্ক কমে যাবে।

বাংলাদেশের উচিত, মার্কিন পণ্যের ওপর প্রচলিত শুল্কের হার ৭৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা। এর ফলে বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্ক হবে ১৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে সেখানে রপ্তানি যোগ-বিয়োগ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার দিকে তাকালে দেখা যাবে, এই প্রক্রিয়ায় আমরা লাভবান হব।

আরও পড়ুন