শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯:১০, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | আপডেট: ১৯:১৩, ৩ এপ্রিল ২০২৫
এনবিআরের হিসাবে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য আমদানি হওয়া ২৬২ কোটি ডলারের পণ্যের মধ্যে ১৩৩ কোটি ডলারের পণ্য আমদানিতে কোনো শুল্ক–কর দিতে হয়নি। যেমন গম, তুলার মতো পণ্যে শুল্ক–কর নেই। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া পণ্যে গড়ে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ শুল্ক–কর দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে কাস্টমস শুল্ক–কর আদায় করেছে ১ হাজার ৪১১ কোটি টাকা।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ হাজার ৫১৫টি এইচএসকোডের (পণ্যের শ্রেণি বিভাজন) পণ্য আমদানি হয়েছে বাংলাদেশে। এর মধ্যে আট ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে ৬৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি পণ্যের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রড তৈরির কাঁচামাল—পুরোনো লোহার টুকরা বা স্ক্র্যাপ। গত অর্থবছরে পণ্যটি আমদানি হয় ৭৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া মোট পণ্যের প্রায় ২৭ শতাংশ। গড়ে ৪ শতাংশ শুল্কহার রয়েছে পুরোনো লোহার পণ্য আমদানিতে।
আমদানিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পণ্য হলো এলপিজির উপাদান বিউটেন। গত বছর এই পণ্য আমদানি হয়েছে ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের। বাংলাদেশের শুল্কহার গড়ে ৫ শতাংশ।
তৃতীয় সর্বোচ্চ আমদানি পণ্য হলো সয়াবিন বীজ। সয়াবিন তেল ও প্রাণিখাদ্য তৈরির এই কাঁচামাল আমদানি হয়েছে ৩২ কোটি ডলারের। এই পণ্য আমদানিতে শুল্ক–কর নেই।
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বস্ত্রশিল্পের কাঁচামাল তুলা। এই পণ্য আমদানি হয়েছে ২৬ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের। এটিতেও শুল্ক–কর নেই।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির তালিকায় আরও রয়েছে উড়োজাহাজের ইঞ্জিন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, হুইস্কি, গাড়ি, গম, উড পাল্প, পুরোনো জাহাজ, সয়াকেক, কাঠবাদাম ইত্যাদি।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হওয়া সর্বোচ্চ শুল্ক–কর আছে এমন পণ্যের মধ্যে রয়েছে হুইস্কি। হুইস্কিতে শুল্ক–কর ৬১১ শতাংশ। তবে আমদানি খুবই কম। গত বছর ২২৮ বোতল জ্যাক ডেনিয়েল হুইস্কি আমদানি হয়েছে দেশটি থেকে।
এ ছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শুল্ক–করযুক্ত পণ্য হলো মার্সিডিজ বেঞ্চ। এই গাড়িতে শুল্ক–কর ৪৪৩ শতাংশ। গত বছর আমদানি হয়েছে চারটি গাড়ি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে হিসাব করেছে তাতে আমাদের আমদানি বাড়ানোর বিকল্প নেই। সরকারি–বেসরকারি খাত মিলিয়ে যদি আমদানি বাড়াতে পারি, তাহলে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে। যেমন এখন যা আমদানি তা যদি দ্বিগুণ করা যায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের হার ২৪–২৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তারা পর্যালোচনার ঘোষণা না দিলেও আমাদের প্রস্তুতি এখনই শুরু করে দেওয়া দরকার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি আমদানি বাড়িয়ে এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। এ রকম উদ্যোগ নেওয়া হলে রপ্তানি খাত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারবে।