শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০:৫৭, ১৮ মার্চ ২০২৫ | আপডেট: ১২:৫৭, ১৮ মার্চ ২০২৫
অন্যদিকে সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে মোট ওএসডি আছেন ১২ জন। তবে বর্তমানে প্রশাসনে সবমিলিয়ে ওএসডি কর্মকর্তার সংখ্যা ৫ শতাধিক। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসনে মোট ওএসডি আছেন ৫১৬ জন, এর মধ্যে ১২ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর আগে কখনো এত বেশি সংখ্যক সচিবকে ওএসডি রাখা হয়নি।
এছাড়াও দুজন গ্রেড-১ কর্মকর্তা, ৩৩ জন অতিরিক্ত সচিব, ৭৬ জন যুগ্মসচিব, ১৩৬ জন উপসচিব, ১৫৫ জন সিনিয়র সহকারী সচিব, ৯৪ জন সহকারী সচিব এবং আটজন সিনিয়র সহকারী প্রধানকে ওএসডি করা হয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর প্রশাসনিক কারণে ১২১ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। বাকি কর্মকর্তারা পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ, ছুটি এবং প্রেষণের মতো কারণে ওএসডিতে রয়েছেন বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।
ওএসডি ব্যবস্থায় মূলত কোনো কাজ করানো ছাড়াই বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তাকে বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগসুবিধা দিতে হচ্ছে সরকারকে। এই পুরো টাকাই অপচয় বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আমলারা।
তারা বলছেন, ব্রিটিশ আমলে বিশেষ কাজ সম্পাদনের জন্য চালু করা ওএসডি ব্যবস্থা গত আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চরম উদাহরণ সৃষ্টি করে। ভিন্নমত কিংবা যারা অন্ধভাবে তাদের নির্দেশনা মানেননি- এমন কর্মকর্তাদের বছরের পর বছর ওএসডি করে রাখা হয়। অনেকে এভাবেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো কর্মকর্তাকে ওএসডি না করার জন্য সুপারিশ করা হলো। কোনো ওএসডি কর্মকর্তাকে কাজ না দিয়ে বেতন-ভাতা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে শিক্ষকতা বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাময়িকভাবে পদায়ন করা যেতে পারে।
প্রশাসনে শূন্য পদ ছাড়া পদোন্নতি বন্ধের সুপারিশ
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরির বয়স ৫৯ বছর। আর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়স ৬০ বছর। একজন প্রশাসন বিশেষজ্ঞ বলেন, বিশেষায়িত ও কারিগরি পদের ক্ষেত্রে যেখানে দক্ষ লোকের সংখ্যা খুবই কম সেখানে শুধু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের শাসনামলে দেখা গেছে, যাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে তারা কেউই ওইসব পদে অপরিহার্য নন। মূলত কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক বিবেচনায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চাকরির মেয়াদ শেষে আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের পুরস্কার ছিল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ।
শীর্ষ পদে চুক্তিতে আছেন যারা
প্রশাসনে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমুল গনি, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. নেয়ামত উল্লাহ ভূইয়া, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।
এছাড়া ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) কাইয়ুম আরা বেগম, বিশ্বব্যাংকে বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরীফা খান, সচিব মর্যাদায় পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. মাহফুজুল হক চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এরা সবাই গত বছরের ৫ আগস্টের পর নিয়োগ পেয়েছেন।
ওএসডি সচিব ১২ জন
৮৪ জন সিনিয়র সচিব, সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তার মধ্যে ১২ জন ওএসডি সচিব রয়েছেন। ওএসডি সিনিয়র সচিবদের মধ্যে রয়েছেন- মো. মোস্তফা কামাল, মো. মশিউর রহমান, মো. মনজুর হোসেন। এছাড়া ওএসডি সচিব মো. সামসুল আরেফিন, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, মো. আজিজুর রহমান, মো. নুরুল আলম, মো. খায়রুল আলম শেখ, ফরিদ উদ্দিন আহমদ, রেহানা পারভীন, শফিউল আজিম, এ কে এম মতিউর রহমান।
ভোটের দায়িত্বে থাকা ডিসিদের ওএসডি
আওয়ামী লীগের সময়ে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
প্রাথমিকভাবে ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন ৩৩ জন কর্মকর্তাকে গত ১৯ জানুয়ারি ওএসডি করা হয়েছে। এরা যুগ্ম সচিব হিসেবে বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই কারণে এর আগে ১২ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়। তবে বিতর্কিত নির্বাচনে ডিসি ও এসপি থাকা কর্মকর্তাদের যাদের চাকরির বয়স ২৫ বছর বা এর বেশি হয়েছে তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। সেই অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি ২২ জন সাবেক ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।