ঢাকা, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫

২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৫ শাওয়াল ১৪৪৬

শিরোনাম

Scroll
আসিয়ান সদস্যপদের জন্য থাইল্যান্ডের সমর্থন চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা
Scroll
দুর্নীতির বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াইয়ে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
Scroll
যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ স্থগিত করতে ইউরোপের প্রতি আহ্বান ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর
Scroll
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১১২ জন নিহত, প্রাণভয়ে পালাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা
Scroll
ইউনূস-মোদীর বৈঠক: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
Scroll
বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে থাই বিশিষ্টজনদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করলেন প্রধান উপদেষ্টা
Scroll
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ঘোষণার একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় পতন
Scroll
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করল আদালত, ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন

ড. ইউনূসের মন্তব্যের জবাব দিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬:০৫, ৩ এপ্রিল ২০২৫

ড. ইউনূসের মন্তব্যের জবাব দিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ খ্যাত সাতটি রাজ্য নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের করা মন্তব্যে ভারতজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ড. ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে স্থলবেষ্টিত এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের সমুদ্র প্রবেশাধিকারের অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেন। তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একইসঙ্গে বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে “স্থলবেষ্টিত” বলে বর্ণনা করার এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের “সমুদ্র প্রবেশাধিকারের অভিভাবক” হিসেবে উল্লেখ করার কয়েকদিন পর বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

জয়শঙ্কর বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো অপরেশন (বিমসটেক) ​​-এ ভারতের কৌশলগত ভূমিকা তুলে ধরেন এবং ভারতের ৬ হাজার ৫০০ কিলোমিটার উপকূলরেখা এবং পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সাথে ভারতের ভৌগোলিক সংযোগের ওপর আলোকপাত করেন।

জয়শঙ্কর এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সর্বোপরি, আমাদের বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, যা প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ভারত কেবল পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সাথেই সীমান্ত ভাগ করে না, তাদের বেশিরভাগকে সংযুক্তও করে এবং ভারতীয় উপমহাদেশ ও আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি বড় অংশও প্রদান করে।’

জয়শঙ্কর দাবি করেন, “বিশেষ করে আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল বিমসটেকের জন্য একটি ‘সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে’ আবির্ভূত হচ্ছে, যেখানে সড়ক, রেলপথ, পানিপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে।”

ভারতীয় এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ‘আমরা সচেতন যে- এই বৃহত্তর ভৌগোলিক ক্ষেত্রে পণ্য, পরিষেবা এবং মানুষের সুষ্ঠু প্রবাহের জন্য আমাদের সহযোগিতা এবং সুবিধা প্রদান একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। এই ভূ-কৌশলগত বিষয়কে মাথায় রেখে, আমরা গত দশকে বিমসটেক-কে শক্তিশালী করার জন্য ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং মনোযোগ নিবেদিত করেছি। আমরা আরও বিশ্বাস করি যে- সহযোগিতা একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, চেরি-পিকিং (পক্ষপাতদুষ্ট) বিষয় নয়।’

সম্প্রতি চার দিনের চীন সফরে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত সাতটি রাজ্য। এই রাজ্যগুলো ভারতের স্থলবেষ্টিত অঞ্চল। সমুদ্রে পৌঁছানোর জন্য তাদের যোগাযোগের কোনও উপায় নেই। এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, ‘এটি বিশাল এক সম্ভাবনা উন্মোচন করে। এটি চীনা অর্থনীতির একটি সম্প্রসারণও হতে পারে।’ মূলত ড. মূহাম্মদ ইউনূসের এই মন্তব্য নিয়ে ভারতের রাজনীতিবিদ, সাবেক আমলা ও নীতিনির্ধারকদের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।’ 

আরও পড়ুন