শিরোনাম
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:১৫, ২১ মার্চ ২০২৫
এ রাতটি রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে খুঁজতে বলা হয়েছে হাদিসে। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি বলেছেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের সন্ধান কর। (বুখারি ২০১৭, মুসলিম ১১৬৯)।
এ রাতে বিশেষ কিছু আমল করা জরুরি-
এশা ও ফজর নামাজ জামাতে আদায় করা
শবে কদরে অন্তত এশা ও ফজরের নামাজ জামাতে আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। কোনোভাবে যেন জামাতের নামাজ ছুটে না যায় এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
কদরের রাতের ফজিলত ও বরকত লাভের জন্য অনেকে রাতভর নফল নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত করেন। কিন্তু এক্ষেত্রে অনেকে যে ভুলটি করেন তাহলো জামাতে নামাজ আদায়কে গুরুত্ব দেন না। অথচ নফল ইবাদতের থেকেও ফরজের গুরুত্ব বেশি।
সালাতুত তাসবিহের নামাজ আদায় করা
এ রাতে সালাতুত তাসবিহ আদায়ের অনেক অনেক ফজিলত রয়েছে। তাসবিহের নামাজ। সালাত শব্দের অর্থ নামাজ। আর তাসবিহ বলতে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ শব্দগুলো বোঝানো হয়েছে। যে নামাজে এসব তাসবিহ পড়তে হয়, তাকে সালাতুত তাসবিহ বলে।
নবী কারিম (সা.) জীবনে একবার হলেও মুসলমানরা যেন এ নামাজ পড়ে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদিস ১২৯৭, ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৩৮৭, সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস ১২১৬, সুনানে বায়হাকি কুবরা, হাদিস ৪৬৯৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) তার চাচা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে (রা.) এই নামাজ শিক্ষা দিয়েছিলেন। বলেছেন, এই নামাজ পড়লে আল্লাহ তাআলা আগের ও পরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।
سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلَا إلَهَ إلّا اللهُ، وَاللهُ أكْبَر উচ্চারণ:
সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’ অর্থ: মহা পবিত্র আল্লাহ। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ সবার চেয়ে বড়।
প্রথম রাকাতে সানা পড়ার পর তাসবিহ ১৫ বার পড়তে হবে। তারপর স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা পড়ার পর তাসবিহ ১০ বার পড়তে হবে। রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবিহ পড়ার পর তাসবিহ ১০ বার পড়তে হবে। রুকু থেকে দাঁড়িয়ে ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ পড়ার পর তাসবিহ ১০ বার পড়তে হবে। সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবিহ পড়ার পর তাসবিহ ১০ বার পড়তে হবে। প্রথম সিজদা থেকে বসে তাসবিহ ১০ বার পড়তে হবে। আবার সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবিহর পর তাসবিহ ১০ বার পড়তে হবে।
রাত জেগে ইবাদত করা
শবে কদরের ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সা.) আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় শবে কদরে ইবাদত করবে, তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম: ৭৬০; বুখারি: ২০১৪)
নবীজি বলেন, যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদাত করবে, অতঃপর সে রাত লাভ করার তাওফিকপ্রাপ্ত হবে, তার পেছনের ও পরের সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে। (মুসনাদ আহমাদ ২২৭১৩)
ঝগড়া বিবাদ থেকে বিরত থাকা
কদরের রাতটিকে হাদিসে নির্দিষ্ট করা হয়নি। এ রাতটি সম্পর্কে আল্লাহর রসুল (সা.) সাহাবিদের জানাতে গিয়েছিলেন, কিন্তু দুই ব্যক্তির ঝগড়ার কারণে তা গোপন রাখা হয়।
রমজানের শেষ দশকের পুরোটা সময় বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলোতে ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থাকা উচিত। বলা যায় না, কোনো একটি রাত হয়তো কদরের হলো কিন্তু কেউ বিবাদে লিপ্ত থাকার কারণে তা থেকে বঞ্চিত হলেন।
গুনাহ মাফের দোয়া করা
মাহে রমজানের শেষ দশকের যেকোনো রাত শবে কদর হতে পারে। তাই প্রত্যেকটি বেজোড় রাতে ইবাদত করা উচিত। এসব রাতে পাঠ করার জন্য হাদিসে বর্ণিত একটি দোয়া রয়েছে।
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসুল, আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে তখন কোন দোয়া পড়বো? তখন তিনি বললেন, তুমি বলো-
اللَّهمَّ إنَّك عفُوٌّ كريمٌ تُحِبُّ العفْوَ، فاعْفُ عنِّي উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারিম; তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।
অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫১৩)