শিরোনাম
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩:১১, ২২ মার্চ ২০২৫
কিছু মুখশুদ্ধি তো এমন রয়েছে, যা খাওয়ার পিছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ও আয়ুর্বেদিক কিছু কারণ। মুখশুদ্ধি হিসেবে লবঙ্গকে একদম ওপরের সারিতে রেখেছে আয়ুর্বেদ। লবঙ্গকে খাওয়ার পরে চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। লবঙ্গ যে কেবল মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে তাই নয়, হজমের প্রক্রিয়াকে মজবুত করতে এর জুড়ি মেলা ভার। লবঙ্গ যে শুধু এক ঘরোয়া দারুণ মশলা তাই নয়, এটির মধ্যে রয়েছে বিশেষ ঔষধিগুণও।
ভারতের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ২০২৪- সালের এক গবেষণা বলছে, লবঙ্গে ব্যাকটেরিয়া রোধী, ফাঙ্গাস রোধী ও প্রদাহ রোধী বিশেষ গুণাবলি রয়েছে। পাশাপাশি এতে পাওয়া যায় ইউজেনল নামে এক বিশেষ উপাদান, যা হজমকে আরো ভালো করে এবং মুখের দুর্গন্ধ রোধ করতে সহায়তা করে।
লবঙ্গ খাওয়ার পরে গ্যাস, এসিডিটি, বদহজমের মতো সমস্যা থেকে রেহাই দেয় শরীরকে। লবঙ্গের গুণ বিশেষ পাচনরসকে সক্রিয় করে যাতে খাবার তাড়াতাড়ি ও সহজে হজম হয়।
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য লবঙ্গ উপকারী। গবেষণা জানাচ্ছে, লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে শর্করার পরিমাণ অনেকটাই কমে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে লবঙ্গের মতো কার্যকরী উপকরণ কমই আছে।
লবঙ্গকে বলা হয় প্রাকৃতিক মাউথ ফ্রেশনার। দাঁতের যন্ত্রণা, মাড়ির ফোলাভাব কমাতে কার্যকরী ভূমিকা নিয়ে থাকে লবঙ্গ। বহুদিন ধরেই লবঙ্গ তেলকে দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ব্যবহার করা হয়।
লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা প্রদাহজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। অনেকের শরীরে প্রদাহের কারণেই ব্যথা-বেদনা হয়। সেই সব বশে রাখতে মুখে লবঙ্গ রাখা যেতে পারে।
ঠাণ্ডা লাগলে লবঙ্গ চিবালে গলার জমা কফ সহজে বেরিয়ে আসতে পারে। এর ব্যাকটেরিয়ারোধী গুণ সর্দি ও কাশি থেকে রেহাই দেয়। বিভিন্ন গবেষণায় ওঠে এসেছে, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে লবঙ্গের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
লবঙ্গে রয়েছে ‘ইউজেনল’ নামক একটি উপাদান। যেটি সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এই ‘ইউজেনল’ আসলে এক প্রকার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান। অতিরিক্ত তেলমশলা খাওয়ার পর পেটে প্রদাহজনিত অস্বস্তি এড়াতেও মুখে লবঙ্গ রাখতে পারেন।
লবঙ্গে ম্যাঙ্গানিজ ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো উপাদান থাকে, যা হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই উপাদানগুলো হাড়ের টিস্যু মেরামত করতে সাহায্য করে। একইভাবে জয়েন্টের ব্যথা কমায়। পাশাপাশি বয়স্ক ব্যক্তিদের পেশির ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে।
লবঙ্গের বিশেষ উপাদান শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে, যাতে ডায়াবেটিক রোগীদের উপকার হয়। লবঙ্গে উপযুক্ত মাত্রায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
শুকনা লবঙ্গের কুঁড়ি লিভারে প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব ফেলে। ভারতীয় পুষ্টিবিদ আরোশি গার্গের মতে, এটি নতুন কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। লিভারকে ডিটক্স করে।
লবঙ্গের গুণে শরীর থাকে সুস্থ, নীরোগ। শরীরের নানা সংক্রমণ থেকে লড়ার ক্ষমতা তৈরি হয় লবঙ্গের বিশেষ উপাদানের ফলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পরে ১ থেকে ২টি লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়ার উপকার অনেক। ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেতে হবে, যাতে এর রস মুখে ভালোভাবে মিশ্রিত হতে পারে।