শিরোনাম
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:০৫, ২৯ মার্চ ২০২৫ | আপডেট: ১৭:০৬, ২৯ মার্চ ২০২৫
পবিত্র ঈদে খাবারের বৈচিত্র্য ও পরিমাণ দুটিই বেশি থাকে। তাছাড়া এখন গরমকাল। তাই সময় ও পুষ্টি বিবেচনায় ঈদের খাবার কেমন হওয়া উচিত তা জেনে রাখলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো যেতে পারে-
ঈদের দিন সকালের খাবার মেন্যু যাতে একটু হালকা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেহেতু পুরো একমাস একই নিয়মে রোজা রাখার পর ঈদের সকালে প্রথম খেতে হচ্ছে, সেহেতু হঠাৎ বেশি খাবার খেয়ে ফেলা যাবে না।
ঈদের দিন সকালের খাবার তালিকায় ফিরনি রাখতে পারেন। দুধ, চাল ও গুড় দিয়ে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন ফিরনি, যা থেকে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও মিনারেলস পাওয়া যায়। দুধের বানানো যেকোনো রেসিপি প্রোটিনের পাশাপাশি ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করবে। ফলের জুস বা ফল থাকতে পারে সকালের খাবার মেন্যুতে।
সুস্থ থাকতে এদিন খাবারের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা-
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৭০ কেজি ওজনের পূর্ণবয়স্ক সুস্থ একজন ব্যক্তি সারা দিনে ২৫০-৩০০ গ্রাম মাংস খেতে পারেন। তবে অন্য প্রোটিনের উৎস থাকলে মাংসের পরিমাণ কমাতে হবে। চাহিদার চেয়ে বেশি মাছ, মাংস বা প্রোটিনজাতীয় খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তের কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ, পাইলস, ফিসার, ইউরিক অ্যাসিড ইত্যাদির মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে তাদের প্রথম শ্রেণির প্রোটিন ৩০-৫০ শতাংশ কমাতে হবে। রেডমিটে সোডিয়ামের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে। তাই গরু ও খাসি না খেয়ে মুরগির মাংস খাওয়া ভালো।
হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল বেশি, এমন ব্যক্তির গরু ও খাসির মাংস কম খাওয়া উচিত। চামড়া ছাড়া মুরগি বা হাঁসের মাংস খাওয়া যাবে। গরু বা খাসির মাংসের গায়ে যে সাদা চর্বি লেগে থাকে, সেটা বাদ দিয়ে ঝোল ছাড়া পরিমিত মাংস খাওয়া যাবে।
ডায়াবেটিক রোগীরাদের মিষ্টি বা ডেজার্ট এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে এদিন। ঝাল বা নোনতা খাবার বেছে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বেশির ভাগ ডায়াবেটিক ব্যক্তিরই উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল বেশি থাকে। ফলে ভাজাপোড়া তৈলাক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো।
ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে হাঁস, গরু, খাসির মাংস বেশি খাবেন না। কলিজা, মগজ, মাছের ডিম, ভুঁড়ি খাওয়া যাবে না।
ফ্যাটি লিভার থাকলে তেল–চর্বিজাতীয় খাবার কম খাবেন। মাছ–মাংস ঝোল বাদ দিয়ে খেতে হবে। ভাত, রুটি বা অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট মেপে খেতে হবে।
আইবিএসের রোগীরা দুধ ও দুধের তৈরি খাবার খাবেন না। ল্যাকটোজ ফ্রি দুধে রান্না হলে খাওয়া যাবে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-
গরু-খাসির মাংসের সাদা চর্বি ফেলে দিতে হবে।
মাছ–মাংসের ঝোল কম খেতে হবে।
রান্নায় শর্ষের তেল বা সূর্যমুখী তেলের ব্যবহার।
মাংস রাতে নয়, সকালে ও দুপুরে খেতে পারেন।
মাংস ছোট ছোট টুকরা করে কেটে রান্না করা ভালো।
রান্নার চেয়ে গ্রিল বা কাবাব খাওয়া যেতে পারে।
মাংস রান্নার সময় টমেটোর মতো পটাশিয়ামসমৃদ্ধ সবজি যোগ করুন।
খাওয়ার সময় এক টুকরা লেবু নিন। এগুলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।