শিরোনাম
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:০২, ৩০ মার্চ ২০২৫
মেহেদি পাতা বেটে, শুকিয়ে, গুঁড়া করে বা পেস্ট করে শরীরের বিভিন্ন স্থান রাঙানোর ইতিহাস বহু পুরনো। আর উৎসবে বিশেষ করে ঈদ হলে তো কথাই নেই। ঈদের আনন্দ শুরু হয় হাতে মেহেদী লাগানোর পর। আর তাই চাঁদ উঠার সাথে সাথে মেহেদী পড়ানোর আমেজ শুরু হয় প্রতিটি পরিবারে।
যদিও মানব সভ্যতার ইতিহাস ৫ হাজার বছর ধরা হয়, তবে মেহেদির ইতিহাস কিন্তু তার চেয়েও পুরনো। সেই নব্যপ্রস্তর যুগ (১০০০০-৪০০০ খ্রিষ্টপূর্ব) থেকে মেহেদির ব্যবহার শুরু হয় উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মরু অঞ্চলে। জানা যায় প্রায় ৯ হাজার বছর আগে মরুবাসী প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচার জন্য তাদের পায়ে মেহেদি পেস্ট দিয়ে ঢেকে রাখতো। মেহেদি পেস্ট তাদের শরীরকে ঠাণ্ডা রাখত। বিশেষত যোদ্ধাদের মধ্যে এর প্রচলন বেশি ছিল ।
এরপর দক্ষিণ চীনে প্রায় ৩ হাজার বছর ধরে প্রাচীন দেবী সংস্কৃতির সময় থেকে মেহেদি ব্যাপকভাবে প্রেমমূলক ধর্মানুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। প্রাচীন মিসরের রানি নেফারতিতি ও রানি ক্লিওপেট্রা নিয়মিত মেহেদি ব্যবহার করতেন। মিসরের পিরামিডে ফারাও সম্রাটদের মমিতে মেহেদির ব্যবহার হতো। মধ্যযুগের কিছু চিত্রকলায় দেখা যায় কিং সলোমানের সঙ্গে রানির সেবারত অবস্থার কিছু ছবিতে তাকে মেহেদি পরতে দেখা যায়।
১২০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে উপমহাদেশে মেহেদির ব্যবহার শুরু হয় এবং মোগল আমলে প্রাকৃতিক প্রসাধনী হিসেবে মেহেদির ব্যাপকতা ছড়িয়ে পরে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মেহেদির প্রচলন শুরু হলেও বর্তমানে মেহেদি দেওয়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা হিসেবে পরিচয় লাভ করেছে। ইসলাম, খ্রিষ্টান, হিন্দু, বৌদ্ধসহ প্রায় সব ধর্মেই মেহেদির পবিত্রতা, ওষধি গুণাগুণ ও ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে ব্যাপক পরিমাণে মেহেদির ব্যবহার করা হয়।
মেহেদি দেওয়ার প্রথার গুরুত্ব বিয়ে, ঈদ-পূজা, বৈশাখ ও নববর্ষের অনুষ্ঠানে সময় আসলেই বোঝা যায়। আফ্রিকার অনেক জায়গায় আরোগ্য মুক্তি উপলক্ষে এবং আরব্য সংস্কৃতির বিয়েতে ‘মেহেদি সন্ধ্যা’ একটি জনপ্রিয় প্রথা রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহেও দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চীনসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আয়ুর্বেদীয়, ইউনানি ও বিভিন্ন প্রকার অর্গানিক চিকিৎসায় মেহেদির ব্যবহার হয়ে থাকে।
ভারতীয় উপমহাদেশে এক সময় মেহেদির ব্যবহার শুধু মুসলিম সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে মুঘল সাম্রাজ্যের জনগণ এটাকে প্রসারিত করে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মেহেদির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এবং আফ্রিকায় যেসব দেশের ভাষা অ্যারাবিক সেসব দেশেও ব্যবহৃত হয় এই মেহেদি।
তবে আগে মেহেদি পাতা সংগ্রহ করে বেটে তবেই রাঙাতে হতো হাতের তালু। কিন্তু এখন মেহেদি লাগানো অনেকটাই ঝামেলাহীন। মেহেদির টিউব দিয়ে অনায়াসে করে নিতে পারেন মনের মতো নকশা। হাতের পাশাপাশি পা কিংবা বাজুও রাঙ্গিয়ে নিতে পারেন মেহেদির ছোঁয়ায়।
হাতের মাঝখানে আঁকা বৃত্ত আর চারিদিকে গোল করে ফোটা- এই ছিলো এক সময়ের প্রচলিত নকশা। টিউব মেহেদির কল্যানে এখন সূক্ষ্ম কারুকাজ করা নকশাই সবার পছন্দের।
তবে কার হাতে কেমন নকশা মানায় সেটা জানা থাকা জরুরী। যাদের হাতের পাতা বড় তারা হাতে ভরাট নকশা করলে দেখতে ভালো দেখাবে। ছোট হাতের একপাশে লম্বালম্বি ডিজাইন মানানসই।
হাতের আঙুল যদি ছোট হয় তবে অনামিকা বা মাঝের আঙুলে লম্বা করে নকশা আঁকুন। যাদের হাত লম্বা তারা কিছুটা অংশ ফাঁকা রেখে ভরাট ডিজাইন করতে পারেন।
তবে যেহেতু উৎসবের উপলক্ষ্য সেহেতু দু হাত ভরেও করতে পারেন মেহেদির নকশা। কনুই পর্যন্ত নামিয়ে নিতে পারেন নকশাকে। আবার কব্জি থেকে নামিয়ে লাগাম টেনে ধরতে পারেন নকশার।