শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:২৩, ১ এপ্রিল ২০২৫ | আপডেট: ১২:৫২, ১ এপ্রিল ২০২৫
এ যাবত প্রশাসনের যারা ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক’ পদক পেয়েছেন, তারা ভুগছেন আতঙ্কে। আওয়ামী লীগের আমলে পদকপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে হাসিনা সরকারের কাছ থেকে ‘বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত’ হিসেবে। বলা হচ্ছে, এই পদকপ্রাপ্তরা মূলত দলবাজ ও দলীয় মদতপুষ্ট। তারা দলীয় বিবেচনাতেই এই পদক পেয়েছেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়। তাই বর্তমানে তাদের রাখা হয়েছে সন্দেহের তালিকায়। পদক বাতিলের পর পদকপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হতে পারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এরা এখন এই আতঙ্কে দিন পার করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
এর আগে, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের নামে নামকরণ করা বিভিন্ন সরকারি স্থাপনার নাম পরিবর্তন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এখনও বাতিল করা হয়নি ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক’। বাতিলের ধারাবাহিকতায় ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক’ যে কোনও সময় বাতিল করা হতে পারে। এ প্রক্রিয়া শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে কবে নাগাদ সেটি বাতিল হচ্ছে, আর কবে নাগাদ সেই আদেশের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে; তা বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কেউই।
জনপ্রশাসনের সব কর্মবিভাগে নিযুক্ত কর্মচারীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী প্রয়াস, সেবা সহজীকরণ ও গঠনমূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন ও সেবাপরায়ণ মনোভাব তৈরি ও সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতি ত্বরান্বিতকরণে জনপ্রশাসনকে গণমুখী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ব্যক্তি, দল ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অনন্য কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, জনপ্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে মোট ১২টি পদক প্রদান করা হবে। পুরস্কার হিসেবে একটি স্বর্ণপদক (২১ ক্যারেট মানের ১৫ গ্রাম ওজনের) এবং রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম সংবলিত সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত অবদানের জন্য ২ লাখ ও দলগত অবদানের জন্য ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দলগত অবদানের ক্ষেত্রে দলের সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা হবে পাঁচ জন। দলের প্রত্যেক সদস্যকে স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট দেওয়া চালু করা হয়। কোনও সরকারি কর্মচারী তার কোনও অবদানের জন্য অন্য কোনও জাতীয় পদকের জন্য একবার পুরস্কার অর্জন করলে, তিনি তার ওই একই কাজের জন্য আর পদকের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
অভিযোগ রয়েছে, এই পদক চালু করার পর আওয়ামী লীগ সরকার মনে করেছিল, এতে করে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারেন এবং অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধেও চলে যেতে পারেন। সেই আতঙ্ক থেকেই ২০২২ সালে ‘জনপ্রশাসন পদক’ এর নাম বদলে ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক’ ব্যবস্থা চালু করা হয়। এজন্য ‘জনপ্রশাসন পদক’ নীতিমালা ২০১৫ (২০১৬ সালে সংশোধিত) বাতিল করে ২০২২ সালে ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক নীতিমালা, ২০২২’ করে শেখ হাসিনা সরকার। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দলবাজি করার জন্য নাম পরিবর্তন করে দলীয় কর্মীদের মতো প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঝে পদক বিতরণ করা হয়েছে। এটি করে অনেক যোগ্য ও মেধাবী দক্ষতা উন্নয়ন সেবাপরায়ণ কর্মকর্তাদের পদক থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।