শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:১৮, ১৮ মার্চ ২০২৫ | আপডেট: ১২:৫৬, ১৮ মার্চ ২০২৫
গত বৃহস্পতিবার জামায়াতপন্থি সংগঠন নারী অধিকার আন্দোলন প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। দুটি কর্মসূচিতেই অংশগ্রহণকারী জামায়াতের নারী নেতাকর্মীরা বোরকা পরিহিত ছিলেন, মুখ ঢাকা ছিল হিজাবে। গত শুক্রবার ময়মনসিংহে নগরীর টাউন হল মিলনায়তনের মতো উন্মুক্ত স্থানে জামায়াতের মহিলা বিভাগের আয়োজনে ‘তাকওয়াভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে নারীর ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার হয়। নারী কর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে ১১ মার্চ ঝিনাইদহের মহেশপুরে সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে নারী সমাবেশ করে স্থানীয় জামায়াত। এতে হাজারো নারী নেতাকর্মী বোরকা, হিজাব পরে অংশ নেন। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জামায়াতের নারী নেতাকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে ওই সমাবেশ হয়।
১১ মার্চ জামায়াত কার্যালয়ে দলটির আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ সময় তাঁর সঙ্গে জামায়াতের চার নারী নেত্রীও কথা বলেন। নারী নেত্রীদের সঙ্গে হাইকমিশনারের সাক্ষাতের ছবি জামায়াতের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়। জামায়াতের নারী নেতাদের কূটনৈতিকদের সঙ্গে সাক্ষাতের নজির নেই। আগে কখনই নারীদের কার্যক্রমের তথ্য কিংবা ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।
মহিলা জামায়াতের কার্যক্রম ও নারী প্রতিনিধিত্ব
বিএনপি এবং অন্যান্য মধ্যপন্থি দলের নারী শাখা থাকলেও জামায়াতের রয়েছে মহিলা বিভাগ। এর নেতৃত্বে রয়েছেন একজন সেক্রেটারি। মহিলা বিভাগের কার্যক্রম জামায়াতের মূল কার্যক্রম থেকে আলাদা। মহিলা বিভাগ এলাকাভিত্তিক নিজস্ব কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম চালায়। নির্বাচনে নারী ভোট টানতে মহিলা বিভাগ গ্রাম-শহরনির্বিশেষে ঘরে ঘরে সাংগঠনিক দাওয়াতি কাজ করে। ‘প্রোগ্রাম’, ‘তালিম’ নামে পরিচিত ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে জামায়াতের সহযোগী সদস্য, কর্মী হিসেবে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নারীদের কোরাআন, হাদিস, ইসলামী সাহিত্যের শিক্ষাও দেওয়া হয় এসব কর্মসূচির মাধ্যমে। শেখ হাসিনার আমলে জামায়াতের অনেক নারী নেতাকর্মী এমন কর্মসূচি থেকে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।
উপজেলা, জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে মহিলা বিভাগের রোকন (সদস্য) এবং নারী নেতারা ভোটদানের অধিকারী। জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ৩৮২ সদস্যের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সক্রিয় ৫২ সদস্যের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী। যদিও সর্বোচ্চ ফোরাম ২১ সদস্যের নির্বাহী পরিষদে একজন নারীও নেই। মজলিসে শূরা জামায়াতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক। এর ৪০ শতাংশ সদস্য নারী। অন্য কোনো দলে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এত বেশি নারী প্রতিনিধিত্ব নেই।
দলটির এক নেতা জানান, জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেতারা পেশায় চিকিসৎক, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী; তা জেনে বিটিশ হাইকমিশনার বিস্মিত হয়েছেন। নারী নেতারা তাঁর সঙ্গে সাবলীল বৈঠক করায় নতুন ধারণা পেয়েছেন।
নির্বাচনে জামায়াতের নারী নীতি
১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে জামায়াতের দু’জন নারী এমপি ছিলেন। অষ্টম সংসদে দলটির নারী এমপি ছিলেন তিনজন। তারা ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি। জামায়াত কখনই সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেয়নি। তবে স্থানীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী নিয়মিত দিয়েছে। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামায়াত সমর্থিত ৩৬ জন জয়ী হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে জাময়াত সমর্থিত নারী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন ১২ উপজেলায়। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে জামায়াতের নারী নেতা জয়ী হয়েছিলেন।
আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নারী প্রার্থী দিতে পারেন– এমন গুঞ্জন রয়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির সমকালকে জানিয়েছিলেন, যোগ্য হলে প্রার্থী হিসেবে নারীদের বিবেচনা করা হতে পারে।